ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব | কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি |
সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল |
একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রধান শর্ত হলো একটি সুস্থ ও চরিত্রবান তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু অত্যন্ত বেদনার বিষয়, আজ আমাদের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোসহ যশোর ও বাঘারপাড়ার বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের ভয়াল থাবা তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে।
মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; এটি একটি পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয় এবং সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে। শুধু পুলিশি অভিযান বা ভয় দেখিয়ে এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। মাদকের মূল উৎপাটন করতে হলে তরুণদের হাতে তুলে দিতে হবে খেলার বল, তাদের উপহার দিতে হবে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের একটি সুন্দর পরিবেশ।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও সমাজকল্যাণের মূলমন্ত্রই হলো মানুষের সার্বিক সুরক্ষা। আমরা এমন এক বাঘারপাড়া ও যশোর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে আমাদের সন্তানেরা মাঠজুড়ে খেলাধুলা করবে, মাদকমুক্ত পরিবেশে নিজেদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটাবে।
১. হারিয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার ও স্পোর্টস একাডেমি স্থাপন
ক্রীড়াচর্চাই হলো মাদক প্রতিরোধে যুবসমাজের সবচেয়ে বড় ঢাল।
- খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কার: বাঘারপাড়া ও যশোরের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠগুলো উদ্ধার করা হবে এবং আধুনিক ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে সংস্কার করা হবে।
- স্থানীয় টুর্নামেন্ট আয়োজন: বছরজুড়ে নিয়মিত ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও প্রথাগত গ্রামীণ খেলার টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে, যেন তরুণেরা নিজেদের খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখার সুযোগ পায়।
- তৃণমূল স্পোর্টস একাডেমি: দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞ কোচদের সমন্বয়ে স্পোর্টস ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে।
২. সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও মেধা বিকাশের সুযোগ
অপসংস্কৃতি ও একঘেয়েমি জীবনযাপন থেকে তরুণদের বের করে আনতে সাংস্কৃতিক জাগরণ অত্যন্ত জরুরি।
- সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সক্রিয়করণ: প্রতিটি উপজেলায় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, সংগীত, চিত্রাঙ্কন ও নাট্যচর্চার পথ সুগম করা হবে।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্লাব: যুবসমাজকে মাদকের মোহের বদলে বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করতে বিজ্ঞান মেলা ও কোডিং এক্সপোর মতো শিক্ষণীয় ইভেন্ট আয়োজন।
- লাইব্রেরি বা পাঠাগার আন্দোলন: পাড়ায় পাড়ায় আধুনিক ও ডিজিটাল লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে, যেন তরুণরা বই পড়ার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হতে পারে।
৩. জিরো টলারেন্স নীতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা
মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান একেবারে স্পষ্ট এবং আপসহীন।
- মাদক কারবারিদের স্থান নেই: দলীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, মাদক কারবারি ও সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
- সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি: স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও তরুণদের সমন্বয়ে ‘মাদক বিরোধী প্রতিরোধ সেল’ গড়ে তোলা হবে, যা সরাসরি প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।
৪. মাদকাশক্তদের পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং ব্যবস্থা
যাঁরা ভুল পথে পা বাড়িয়েছেন, তাঁদের প্রতি ঘৃণা নয় বরং সহানুভূতি ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
- মানসম্মত রিহ্যাব সেন্টার: আধুনিক চিকিৎসা ও অভিজ্ঞ মানসিক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্থানীয়ভাবে পুনর্বাসন কেন্দ্র ও কাউন্সেলিং সাপোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- পুনর্বাসন পরবর্তী কর্মসংস্থান: চিকিৎসা শেষে সুস্থ তরুণদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যেন তারা পুনরায় অপরাধের জগতে ফিরে না যায়।
উপসংহার
আমাদের সন্তানরা যেন মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, বরং আলোর পথে হেঁটে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনে—এটাই আমাদের স্বপ্ন। মাদককে ‘না’ বলুন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চাকে ‘হ্যাঁ’ বলুন। আসুন, আমরা দল-মত নির্বিশেষে হাত মিলিয়ে একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ যশোর-বাঘারপাড়া গড়ে তুলি।



