লেখক: ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ূব (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি)
বাংলাদেশ এক নদীমাতৃক ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হলো আমাদের মেহনতি কৃষক সমাজ। রোদ-বৃষ্টি ও ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে যে হাতগুলো ফসল ফলায়, সে হাতগুলোর ওপরই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের পুরো জাতির খাদ্য নিরাপত্তা।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতি সবসময় বিশ্বাস করে—কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, আর কৃষকের উন্নতিই হলো বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আজও আমাদের প্রান্তিক কৃষকরা তাদের কষ্টের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত এবং আধুনিক কৃষিতথ্য ও প্রযুক্তির বাইরে রয়ে গেছেন।
একজন প্রফেশনাল প্রকৌশলী এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি, কৃত্রিম নয়—কৃষি খাত ও কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রয়োজন বৈপ্লবিক ও টেকসই পরিকল্পনা।
১. সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থার সহজলভ্যতা
কৃষি উৎপাদনের প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সঠিক সময়ে মানসম্পন্ন উপাদান পাওয়া।
- সঠিক ভর্তুকি ও বণ্টন: কৃষক পর্যায়ে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি ন্যায্যমূল্যে সার ও উন্নত জাতের বীজ পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প (Solar Irrigation): বিদ্যুৎ ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে গ্রামীণ পর্যায়ে সৌর বিদ্যুৎভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার প্রসারে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নেওয়া।
২. প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও আধুনিক ড্রেনেজ অবকাঠামো
চিরাচরিত উপায়ের পাশাপাশি কৃষিকে প্রযুক্তিমুখী করা এবং সঠিক সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
- ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা অবকাঠামো উন্নয়ন: কৃষিজমিতে সময়মতো পানি সরবরাহ এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাকা ক্যানেল ও প্রফেশনাল ড্রেনেজ সিস্টেম ডিজাইন করা।
- সয়েল টেস্ট ও ডিজিটাল পরামর্শ: জমি অনুযায়ী কোন সার ও ফসল উপযুক্ত, তা নির্ণয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল কৃষি সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা।
৩. পণ্যের ন্যায্যমূল্য ও ক্রপ ইনস্যুরেন্স (ফসলি বীমা)
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল হানি হলে এ দেশের কৃষকদের মাথা তুলে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
- কৃষক বাজার ও মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূল: সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের সরকারি উদ্যোগ ও স্থানীয় কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি করা।
- জাতীয়তাবাদী ফসলি বীমা নীতি: অতিবৃষ্টি, বন্যা বা খরায় ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ মওকুফ ও ফসলি বীমার আওতায় কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান।
৪. সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতার বিকাশ
কৃষকদের কেবল খাদ্য উৎপাদনকারী ভাবলেই চলবে না, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে তাদের মতামত ও অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে।
- কৃষক রাজনীতি ও সচেতনতা: রাজনৈতিকভাবে কৃষকদের সংঘবদ্ধ করে তাদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে পাশে থাকা।
- পরবর্তী প্রজন্মকে কৃষিতে উৎসাহ প্রদান: আধুনিক ‘এগ্রো-ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কৃষি প্রযুক্তিতে তরুণদের প্রশিক্ষিত করে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা (Agri-Entrepreneur) হিসেবে গড়ে তোলা।
শেষ কথা
শহরের ইট-পাথরের বড় বড় প্রজেক্টের পাশাপাশি গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক অবকাঠামোর রূপান্তরই আমাদের মূল লক্ষ্য। জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারায় কৃষকদের অধিকার রক্ষা কেবল কোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি।
আসুন, মাঠের কৃষকদের হাতকে শক্তিশালী করি এবং একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলি।
আপনার মতামত দিন: আপনার এলাকার কৃষকরা বর্তমানে কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন? মন্তব্য বক্সে জানান অথবা সরাসরি আমাদের যোগাযোগ আইডিতে লিখে পাঠান।
🔗 সোশ্যাল মিডিয়া কানেক্ট



