লেখক: ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ূব (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি)
যশোর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও কৃষি হাব। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাঘারপাড়া-যশোর অঞ্চলের মেধা ও সম্পদের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও সঠিক দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সঠিক কারিগরি পরিকল্পনার অভাবে বছরের পর বছর ধরে আমরা নানা অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছি।
একজন পেশাজীবী স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি—উন্নয়ন কেবল বড় বড় বাজেট পাসের নাম নয়; উন্নয়ন হলো মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার টেকসই ও বাস্তবসম্মত সমাধান।
আজ আমরা আলোচনা করব দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল তথা যশোর অঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনায় আমাদের অগ্রাধিকার এবং প্রকৌশলগত সমাধানের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে।
১. ভবদহ ও আঞ্চলিক জলাবদ্ধতা: স্থায়ী প্রকৌশলগত সমাধান
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম অভিশাপ হলো ভবদহ ও তৎসংলগ্ন এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতা। বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও সঠিক নদী ব্যবস্থাপনা ও জোয়ার-ভাটার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা না করায় সুফল মিলছে না।
- নদী পুনঃখনন ও পলি ব্যবস্থাপনা: টেকসই ও আধুনিক পদ্ধতিতে নদী ও খাল খনন করে ক্যাচমেন্ট এরিয়ার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা।
- প্রকৌশলগত অটোমেশন: স্লুইসগেট ও ওয়াটার কপাটগুলোর আধুনিকায়ন ও অটোমেশন, যা জোয়ার ও ভাটার সময় পানি নিষ্কাশন তরান্বিত করবে।
২. কৃষি ও গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো আধুনিকায়ন
আমাদের বাঘারপাড়া ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মূলত কৃষিভিত্তিক এলাকা। এখানকার কৃষকরা সঠিক সময়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
- কোল্ড স্টোরেজ ও প্রসেসিং সেন্টার: কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য মেগা প্রজেক্টের অধীনে আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ গড়ে তোলা।
- টেকসই গ্রামীণ যোগাযোগ: ভারী যান চলাচলের উপযোগী করে গ্রামীণ মূল সড়কগুলোকে বিটুমিনের পাশাপাশি কনক্রিট (RCC) দিয়ে পুনর্বাসন করা, যাতে বর্ষাকালে রাস্তা নষ্ট না হয়।
৩. কর্মসংস্থান ও আইটি পার্কভিত্তিক মেগা উদ্যোগ
যশোরের তরুণদের ঢাকায় কিংবা প্রবাসে পাড়ি জমানোর প্রবণতা কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ বাড়াতে হবে।
- শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের সর্বোচ্চ ব্যবহার: এই আইটি হাবকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে আরও কার্যকর করে তরুণ প্রকৌশলী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা।
- ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিসিক শিল্পনগরী: যশোর ও বাঘারপাড়ার সংযোগস্থলে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন।
৪. সুশাসন ও দুর্নীতিনুক্ত অবকাঠামো নির্মাণ
উন্নয়নমূলক মেগা প্রজেক্টগুলোতে বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।
- কোয়ালিটি কন্ট্রোল (গুণমান নিশ্চিতকরণ): রড, সিমেন্ট এবং মাটির মান ঠিক রেখে দীর্ঘস্থায়ী নির্মাণ নিশ্চিত করা।
- রাজনৈতিক স্বচ্ছতা: ঠিকাদারি ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে যোগ্য প্রফেশনালদের কাজ প্রদান করা।
শেষ কথা
একটি সমৃদ্ধ যশোর গড়ে তুলতে প্রয়োজন প্রকৌশলগত জ্ঞান এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনের সঠিক সমন্বয়। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং অবকাঠামোগত রূপান্তরের জন্য আমরা মাঠে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
আমাদের ভিশন—একটি উন্নত, আধুনিক ও জলাবদ্ধতামুক্ত নতুন যশোর।
যোগাযোগ ও পরামর্শ: আপনার এলাকার যেকোনো অবকাঠামোগত সমস্যা বা উন্নয়নমূলক আইডিয়া জানাতে কমেন্ট করুন অথবা সরাসরি যোগাযোগ করুন।
🔗 সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম: https://www.facebook.com/Engr.TSAyubBNP



