একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে যশোর-৪ আসন (বাঘারপাড়া-অভয়নগর এবং বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) এই মৌলিক অধিকার থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হয়েছে। যে অঞ্চলটি নওয়াপাড়ার মতো দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্য শহরকে ধারণ করে, সেখানকার গ্রামীণ ও প্রধান সড়কগুলোর আজকের এই বেহাল দশা স্বৈরাচারী সরকারের চরম বৈষম্য ও লুটপাটেরই জীবন্ত প্রমাণ।
আজ সময় এসেছে এই অবহেলার খতিয়ান তুলে ধরার এবং একটি আধুনিক, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত যশোর-৪ আসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করার।
বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী অবহেলা ও জনগণের দুর্ভোগ
বিগত সরকার মেগা-প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করলেও, আমাদের বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
- গ্রামীণ সড়ক ও খানাখন্দের রাজত্ব: বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে আজ চলাচলের অযোগ্য। সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কগুলো কাদার সমুদ্রে পরিণত হয়, যা আমাদের কৃষক, শিক্ষার্থী এবং রোগীদের জন্য এক নিত্যদিনের অভিশাপ।
- ভৈরব নদের ওপর সেতুর অপেক্ষা: বছরের পর বছর ধরে ভৈরব নদের ওপর প্রয়োজনীয় সেতু বা টেকসই পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় নদীপাড়ের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। স্বৈরাচারী জনপ্রতিনিধিরা বারবার শুধু আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করেননি।
- নওয়াপাড়ার যানজট ও অর্থনৈতিক ক্ষতি: দেশের অন্যতম বৃহৎ নদী বন্দর ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু নওয়াপাড়ায় সুপরিকল্পিত বাইপাস বা আধুনিক টার্মিনাল না থাকায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র যানজট লেগে থাকে। স্বৈরাচারী সিন্ডিকেটের চাঁদাবাজির কারণে সড়কগুলো আজ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
“রাস্তাঘাট শুধু ইট-পাথরের তৈরি কোনো পথ নয়, এটি একটি অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রতীক। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি রাস্তা ভাঙা থাকবে, আর শাসকেরা লুটপাট করবে—এই অন্যায় আর চলতে দেওয়া যায় না।” — টি এস আইয়ুব
আমাদের পুনর্গঠনের অঙ্গীকার: কেমন হবে আগামী দিনের যশোর-৪?
আমি বিশ্বাস করি, জনগণের ভোট কোনো দয়া নয়, এটি একটি চুক্তি। আগামী নির্বাচনে আপনারা যদি আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেন, তবে যশোর-৪ আসনের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে আমি নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করব:
- জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কার ও টেকসই নির্মাণ: বাঘারপাড়া ও অভয়নগরের প্রতিটি গ্রামীণ ও প্রধান সড়ককে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। শুধু জোড়াতালি দেওয়া নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে টেকসই রাস্তা নির্মাণ নিশ্চিত করা হবে, যেন বছরের পর বছর তা অক্ষত থাকে।
- ভৈরব নদের ওপর আধুনিক সেতু নির্মাণ: নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটাতে ভৈরব নদের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আধুনিক ও সুপ্রশস্ত সেতু নির্মাণের প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাতে নেওয়া হবে।
- নওয়াপাড়ার যানজট নিরসন ও বাইপাস সড়ক: নওয়াপাড়া শিল্প শহরকে যানজটমুক্ত করতে এবং মালবাহী যানের সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে বাইপাস সড়ক ও আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। একই সাথে সড়ক কেন্দ্রিক সব ধরনের চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।
শেষ কথা
বিগত ১৭ বছর ধরে আমরা শুধু অবহেলা আর জুলুম দেখেছি। বাঘারপাড়া-অভয়নগরের মানুষ আর কোনো ফাঁকা বুলি বা ভাঙা রাস্তায় চলতে চায় না। আমরা চাই অধিকার, আমরা চাই আধুনিক সুশাসন। আসুন, সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমে স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া এই ধ্বংসস্তূপকে পেছনে ফেলে আমরা গড়ে তুলি একটি উন্নত, সুন্দর এবং নিরাপদ যশোর-৪ আসন।
উন্নয়নের এই লড়াইয়ে আপনার মতামত ও পরামর্শ নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান।



